শিরোনামঃ

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বালিয়াকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যানকে সতর্কীকরণ



স্টাফ রিপোর্টার : রাজবাড়ীতে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম শফিকুল মোরশেদ আরুজ ও বালিয়াকান্দি উপজেলা চেয়াম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদকে সতর্ক করা হয়েছে । সোমবার রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার আবু কায়সার খান লিখিতভাবে তাদেরকে সতর্ক করেন ।
লিখিত নোটিশে বলা হয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোন অফিস, যানবাহন এবং অন্যান্য সম্পত্তি কোন প্রার্থীর নির্বাচন বা প্রচারণার কাজে কোনভাবেই ব্যবহার করা যাবে না মর্মে নির্দেশনা রয়েছে। এতদসত্ত্বেও, প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রমে যাতায়াত কালে আপনার কর্তৃক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের যানবাহন ব্যবহারের দ্বারা এ নির্দেশনা লঙ্ঘিত হয়েছে। এ বিষয়ে আপনাকে সতর্ক করা হলো।
উল্লেখ্য, রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রনকারী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে । এসময় রাজবাড়ী-২ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জিল্লুল হাকিমের পক্ষে প্রস্তাবকারী হিসেবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম শফিকুল মোরশেদ আরুজ প্রতীক বরাদ্দ গ্রহণ করেন । বালিয়াকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ এসময় উপস্থিত ছিলেন । তিনি জিল্লুল হাকিমের সমর্থন কারী । দুজনই সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসেছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে ।
রাজবাড়ীতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-১ ও রাজবাড়ী -২আসন হতে মোট ১১ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ¦ন্দীতা করবেন । জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটানিং অফিসার আবু কায়সার খান প্রতিদ¦ন্দী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক তুলে দেন ।
রাজবাড়ী-১ আসনে (রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ ) প্রতিদ¦ন্দী প্রার্থী রয়েছেন ৫ জন । এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী কাজী কেরামত আলীকে দলীয় প্রতীক নৌকা, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী খোন্দকার হাবিবুর রহমানকে দলীয় প্রতীক লাঙ্গল, তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী ডিএম মজিবর রহমানকে দলীয় প্রতীক সোনালী আঁশ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমদাদুল হক বিশ^াসকে ট্রাক, স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বপন কুমার সরকারকে ঈগল প্রতীক বরাদ্দ করা হয় ।
রাজবাড়ী-২ আসনে ( কালুখালী, পাংশা ও বালিয়াকান্দি উপজেলা ) ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে তৃণমূল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস এম ফজলুল হককে দলীয় প্রতীক সোনালী আশঁ, স্বতন্ত্র প্রাথী নুরে আলম সিদ্দিকীকে ঈগল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ মনোনীত প্রার্থী মোঃ আব্দুল মতিন মিয়াকে দলীয় প্রতীক মশাল, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের মনোনীত প্রার্থী মোঃ আব্দুল মালেক মন্ডলকে দলীয় প্রতীক ছড়ি, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. জিল্লুল হাকিমকে দলীয় প্রতীক নৌকা, জাতীয় পাটির্র মনোনীত প্রার্থী মো.শফিউল আজম খানকে দলীয় প্রতীক লাঙ্গল বরাদ্দ করা হয় ।
প্রতীক পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিককের সঙ্গে কথা বলেন এ কে এম শফিকুল মোরশেদ আরুজ। তিনি বলেন, আমরা আজকে নির্বাচন কমিশন থেকে নৌকা প্রতীকের বরাদ্দ পেয়েছি। আজ থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলাম এখান থেকে জাতীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে। পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালীর মানুষ আমাদের প্রার্থী মো. জিল্লুল হাকিমকে বারবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। আমরা বিশ^াস করি এবারও তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন। তিনি পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালীর মানুষের বাকী আশা বাস্তবায়ন করবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি এখানে নির্বাচনী প্রচারে আসি নাই। আমি অফিসে যাবো। এখানে আমার অভিব্যক্তি প্রকাশ করলাম। এরপর তিনি কিছু সময় সেখানে অবস্থান করে জেলা পরিষদের গাড়িতে চলে যান।
প্রতীক বরাদ্দের সময় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু কায়সার খান বলেন, প্রার্থীর নামের বাংলা বর্ণমালার ক্রমানুসারে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। এসময় প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণের বিধি-বিধান মেনে প্রচার কাজ চালনোর আহবান জানান ।
প্রতীক বরাদ্দের সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সূবর্ণা রাণী সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সোহাগ হোসেন, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মো.খাইরুল ইসলাম, প্রার্থী ও প্রার্থীর প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন ।

অন্যান্য খবর পড়ুন