শিরোনামঃ

রাজবাড়ীতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে ৫ কোটি টাকার মানহানির মামলা


স্টাফ রিপোর্টার :
রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী আবুল কালাম আজাদকে নিয়ে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় আদালতে ৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজবাড়ীর ১ নং আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন আবুল কালাম আজাদের আপন বড় বোন ও দাদশী ইউনিয়নের গোপিনাথদিয়া আরএএস অটো ফুড প্রোডাক্টস (প্রাঃ) লিমিেিটড এর পরিচালক মোছাঃ রোকেয়া বেগম।
আদালতের বিচারক রাজবাড়ীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সুমন হোসেন মামলাটি গ্রহণ করে অভিযোগ তদন্তের জন্য রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী রোকেয়া বেগম বলেন, তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত নারী শিল্পোদ্যোক্তা, সমাজকর্মী ও দুই মেয়াদে জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজবাড়ী জেলার হাবাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭,৮,৯ সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সফল সদস্য এবং নিয়মিত আয়কর প্রদানকারী প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ব্যক্তি। পারিবারিকভাবেই সর্বমহলে সুপরিচিত এবং সমাজ হিতৈষী পরিবার হিসেবে সকলের কাছে সমাদৃত। তার পিতা মোঃ আঃ মজিদ মন্ডল রাজবাড়ীর হাবাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ মেয়াদে নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন। পরিবারের ৫ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি পিতার জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার পিতার মৃত্যুর পর মাতা মোছাঃ জায়দা বেগম পুরো পরিবারকে একই ছাতার নিচে আগলে রেখেছেন। তার ভাই মোঃ জিয়াউর রহমান রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানীবহ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য, অপর ভাই মিন্টু মন্ডল সরকারী চাকুরীজীবী হিসেবে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত, আবুল কালাম আজাদ জেলা পরিষদে চাকুরী করেন এবং কনিষ্ঠ ভাই মিলন মন্ডল প্রাইভেট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার ভাই আবুল কালাম আজাদ বিভিন্ন সময়ে এলাকার অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে স্থানীয়ভাবে প্রশংসা অর্জন করেছেন। তার ভাই আবুল কালাম আজাদের সামাজিক কর্মকান্ড এবং জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি কুচক্রীমহল দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের পারিবারিক সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার ভাই আবুল কালাম আজাদ আসন্ন রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিলবোর্ড ও পোস্টার প্রদর্শন সহ প্রচার-প্রচারণা শুরু করে। প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর থেকেই একটি কুচক্রী মহল পারিবারিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত থেকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা, নামে-বেনামে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ প্রেরণ সহ নানা ধরণের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে অজ্ঞাতনামা কুচক্রী মহলের ইন্ধনে গত ১৯ মার্চ ২০২৪ ইং ৮.৪৬ অপরাহ্নে মোঃ সাইমুন রহমানের সম্পাদনায় এবং প্রকাশনায় পরিচালিত কথিত অনলাইন পত্রিকা (সরকারী অনুমোদন বিহীন) সকালের খবর ২৪ ডট কম এ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আঁখি আক্তারের প্রত্যক্ষ তত্তাবধানে এবং বার্তা সম্পাদক হিসেবে নিয়োজিত মোঃ মাহবুব হোসেনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় পরিবারকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য “শূণ্য থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক আবুল কালাম আজাদ, কি তার আয়ের উৎস ? ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন “ সকালের খবর ২৪ ডট কম ” অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশ করে। ওই অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরস্পর যোগসাজশে প্রয়াত পিতার দারিদ্রতা, অপরাপর ভাইদের আর্থিক অবস্থার বিকৃত বর্ণনা প্রচার ও প্রকাশ করেছেন। এছাড়া উল্লেখিত অনলাইন পত্রিকায় আবুল কালাম আজাদের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জন সহ তার মালিকানা হিসেবে বেশ কিছু জমির বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে যাহা সবৈব মিথ্যা। কোনরুপ তথ্যানুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই না করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পারিবারিক, ব্যবসায়িক ও সামাজিক ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টাই করেন নাই উপরন্ত ভাইয়ের বিরুদ্ধে বেপরোয়া ও ত্রাস সুষ্টিকারী দাপুটে ব্যক্তি হিসেবে কাল্পনিক অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। যার কোন ভিত্তি নেই। এ ধরণের কাল্পনিক অভিযোগ সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী।
পরস্পর যোগসাজশে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করে রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকা সহ বিভিন্ন স্থানে অনলাইন পত্রিকার প্রতিবেদনের ফটোকপি বিলি ও প্রচার করে তাদের পরিবারের সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন। যার দ্বারা আনুমানিক পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। এ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
রাজবাড়ী জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এ্যাড. হাবিবুর রহমান বাচ্চু বলেন, মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত পুর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যান্য খবর পড়ুন