শিরোনামঃ

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট : ঈদে ১৫টি ফেরি ২০টি লঞ্চ চলবে :৭ দিন বন্ধ থাকবে ট্রাক পারাপার


সোহেল রানা :
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ ঘাটে যাত্রী সাধারণের ঘরে ফেরা নির্বিঘ্ন করতে ১৫ টি ফেরি, ২০টি লঞ্চ চলাচল করবে। ঈদের ৩দিন আগ থেকে ৩দিন পর পর্যন্ত ৭দিন বন্ধ থাকবে ট্রাক পারাপার।
বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ফেরি ও লঞ্চ সহ বিভিন্ন নৌযান সুষ্ঠুভাবে চলাচল ও ঘাটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সমন্বয় সভায় এ তথ্য জানান বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ সালাউদ্দিন।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন, রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান। সভায় বক্তৃতা করেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোসাম্মৎ মোর্শেদা খাতুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ ইফতেখারুজ্জামান, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোতি বিকাশ চন্দ্র, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ প্রাণবন্ধু চন্দ্র বিশ^াস, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রহমান মন্ডল, দৌলতদিয়া বিআইডব্লিউটিসির ঘাট ব্যবস্থাপক মোঃ সালাউদ্দিন, বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক (পোর্ট অফিসার) মোঃ সাজ্জাদুর রহমান প্রমূখ।
দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, ঘাটে প্রতিটি গাড়ী থেকে বাড়তি টাকা নেয় বিআইডব্লিউটিসি। এটিকে নিবর চাঁদাবাজি বলা যায়। প্রতিদিন এক হাজার গাড়ী পার হলে এক লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি হয় বলে দাবী করেন।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এবারের ঈদে যাত্রীদের দৌলতদিয়ায় কোন ভোগান্তি হবে না। যাত্রীদের চাপ অনেক কম হবে। কারণ এবার পদ্মাতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি ট্রেন চলছে। ঈদে দালাল, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইকারীদের রোধে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এ নিয়ে ঘাট সংশিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসেছেন। ফেরির টিকেট গাড়ীর লোকছাড়া অন্য কারও কাছে দেবেন না। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাহেন্দ্রা, থ্রি হুইলার, অটোরিকসা ঘাট থেকে নির্দ্দিষ্ট দুরত্বে রাখা হবে। এছাড়া ঈদে বাড়ী ফেরা ও ঈদ পরবর্তীতে কর্মস্থলগামী যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়কের মোড়ে মোড়ে পুলিশ থাকবে।
জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান বলেন, আশা করছেন এবার সকলের সহযোগিতায় সুন্দর একটি ঈদ কাটবে। ঘাট সংশিষ্ট কর্মকর্তা, বাস মালিক, পুলিশ প্রশাসনের সাথে সভা করেছেন। এবার পর্যাপ্ত সংখ্যক ফেরি ও লঞ্চ চলাচল করবে। ফলে ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ী ফিরবে যাত্রীরা। ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঘাট এলাকায় লাইটিং, টয়লেটসহ সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। ছিনতাইকারী, দালাল চক্র রোধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও মাঠে থাকবে। তবে ভাড়া ও ফেরির টিকেটের দাম অতিরিক্ত নেওয়ার অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, ঈদের আগে পাঁচ দিন ও পরে পাঁচদিন নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়া ঈদের তিনদিন আগে ও তিন দিন পর পর্যন্ত সড়ক পথে পণ্যবাহী পরিবহন বন্ধ থাকবে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকবে। এছাড়া ঘাটে যাত্রী ও যানবাহন চলাচলে ১৫ টি ফেরি, ২০ টি লঞ্চ চলাচল করবে। পরিবহন, ফেরি ও লঞ্চে যারা কর্মরত থাকবে তাদের নির্দিষ্ট পোশাক ও পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক থাকতে হবে। এসময় ঘাট হয়ে ২১ টি জেলায় ঈদ যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা থাকবে। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা ও তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে। বিআইডব্লিউটিসির চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন সেক্টেরের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যান্য খবর পড়ুন