শিরোনামঃ

মাদকের বিরুদ্ধে শপথ নিল যুব সমাজ : বালিয়াকান্দির শান্তি মিশনের সুবাতাসে ৭ গ্রাম মাদকমুক্ত ঘোষণা


সোহেল রানা : রাজবাড়ী জেলা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার অদুরে রাজবাড়ী-বালিয়াকান্দি সড়কের পাশে বহরপুর ইউনিয়নের শান্তি মিশন গ্রাম। এ গ্রাম ও পাশর্^বর্তী গ্রাম নবাবপুর ইউনিয়নের দিলালপুরে মাদকদ্রব্য বিস্তার লাভ করে। মাদকের করাল গ্রাসে যখন অভিভাবকরা উদ্দীঘ্ন, ঠিক তখনই এলাকার সন্তান ড. এম.এ হাকিম ওরফে নিম হাকিমের উদ্যোগে গড়ে ওঠে শান্তি মিশন যুব সংঘ। যুব সংঘ শান্তি মিশন এলাকাকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করতে উদ্যোগ নেয়। ওই গ্রামের নাম “ শান্তি মিশন স্মার্ট গ্রাম” হিসেবে ঘোষণা দিয়ে মাদকমুক্ত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। এরপর শুরু হয় মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী ধরে পুলিশে সোপর্দ ও মাদক ছাড়ার শপথ। এভাবেই মাত্র ২-৩ মাসে মাদকমুক্ত গ্রামে পরিনত হয়। তাদের এ ঘোষণা ও কর্মে অনুপ্রানিত হয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের শান্তি মিশন স্মার্ট গ্রাম, চরবহরপুর, একরজনা, চরফরিদপুর, নতুনচর, ডহরপাঁচুরিয়া ও নবাবপুর ইউনিয়নের দিলালপুর গ্রামে যুব সংঘ গড়ে তোলেন। অবশেষে ওইসব গ্রামকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করেছেন রাজবাড়ী পুলিশ সুপার জি. এম. আবুল কালাম আজাদ,পিপিএম।
মঙ্গলবার দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, শান্তি মিশন যুব সংঘ, বসুন্ধরা শুভ সংঘ, চরফরিদপুর প্রবাসী ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে শান্তি মিশন প্রাঙ্গণে যুবদের মাঝে মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বহরপুর বাজারে মাদকবিরোধী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
শান্তি মিশনের প্রতিষ্ঠাতা ড. এম এ হাকিম ওরফে নিম হাকিমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, রাজবাড়ী পুলিশ সুপার জি.এম. আবুল কালাম আজাদ,পিপিএম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মুকিত সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) সুমন কুমার সাহা, বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলমগীর হোসেন, স্বপ্নের রাজবাড়ীর সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হোসেন। এসময় অণ্যান্যের মধ্যে মসজিদের ইমাম ইদ্রিস আলী, মসজিদের সভাপতি আবু তাহের, বহরপুর বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী প্রমুখ। পরে উপস্থিত যুব, বৃদ্ধ, শিশু সহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মাদক বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান পুলিশ সুপার জি.এম. আবুল কালাম আজাদ।
মাদকমুক্ত গ্রামের প্রধান উদ্যোক্তা ড. এম.এ হাকিম বলেন, মাদকের করাল গ্রাসে যুব সমাজ আজ ধ্বংসের পথে। এ কারণে আগে নিজ গ্রাম শান্তি মিশন যুব সংঘ গড়ে তুলেছি। আগে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের সতর্ক করা হয়েছে। পরে তাদেরকে মাদকসহ ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। অনেক সেবী ও ব্যবসায়ী মসজিদে গিয়ে শপথ পড়ে নতুন জীবন শুরু করেছে। তারাই এখন মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। একটি গ্রামের উদ্যোগের ফলে আজ ৭টি গ্রামকে মাদকমুক্ত হিসেবে ঘোষণা দিতে পেরেছি। আমি বিশ^াস করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা দিয়েছেন। এতে আগামী ৫ বছরের মধ্যে সারা দেশকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হবে। তবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
রাজবাড়ী পুলিশ সুপার জি.এম. আবুল কালাম আজাদ,পিপিএম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণার প্রেক্ষিতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তবে ভালো লাগার বিষয় পুলিশের পাশাপাশি আজ যুব সমাজ মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছেন। আজ ৭টি গ্রাম মাদকমুক্ত ঘোষণা করতে পেরে আনন্দিত। আগামীতে অন্যান্য গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে কাজ করা হবে।

অন্যান্য খবর পড়ুন